হাড় ক্ষয় Osteoporosis লক্ষণ কারণ প্রতিকার ও সচেতনতা
হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপরেসিস এমন একটি রোগ যা ধীরে ধীরে আমাদের হার কে দুর্বল করে ফেলে এবং অল্প আঘাতে হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। এটি সাধারণত বয়স্ক নারী ও পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায় তবে কম বয়সে দেখা যেতে পারে।

আজকে এই পোস্টে আমরা জানাবো ঃ
- হার ক্ষয় কি ?
- কেন হয় ?
- কার ঝুঁকি বেশি ?
- লক্ষণ ও পরীক্ষা ?
- প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ?
হাড় ক্ষয় (Osteoarthritis)কি ?
Osteoporosis শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ থেকে যার অর্থ ফাঁপা হাড়। এটি এমন এক স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
স্বাভাবিক হাড়ের মধ্যে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে কিন্তু হাড় ক্ষয়ের ফলে ওই ছিদ্র গুলি আরো বড় হয়ে যায় ফলে হাড় সহজেই ভেঙ্গে যেতে পারে ।
হাড় ক্ষয়ের প্রধান লক্ষণ ঃ
প্রথম দিকে হাড় ক্ষয়ের তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না তাই একে নীরব ঘাতক বলা হয় ।তবে কিছু লক্ষণ পরে ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে পারে যেমন ঃ
- সামান্য আঘাতে হাড় ভেঙে যায় ।
- উচ্চতা কমে আসা পিঠ কুঁজো হয়ে যাওয়া।
- পিঠে বা কোমরে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথ।
- দাঁড়িয়ে বা হাঁটার সময় হাঁটু বা কোমরে চাপ অনুভব ।
- বারবার হাড়ে চির বা ফ্যাকচার ।
কারা বেশি ঝুকিতে ঃ
হাড় ক্ষয় কার বেশি হয় সেটি নির্ভর করে কিছু নির্দিষ্ট ঝুঁকি উৎপাদনের উপর যেমন ঃ
বয়স ঃ
৪৫ বছরের পর থেকে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে বিশেষ করে ৫০ বছরের পর নারীদের মধ্যে
মহিলারাঃ
ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে গেলে নারীদের হার ক্ষয় দ্রুত হতে শুরু করে
পারিবারিক ইতিহাস ঃ
পরিবারের কারো হাড় ক্ষয় থাকলে আপনিও ঝুঁকিতে থাকবেন
অপুষ্টি ঃ
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর অভাবে হার দুর্বল হয়ে পড়ে
ধুমপান ও অ্যালকোহল ঃ
অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান হাড়ের স্বাস্থ্য নষ্ট করে
বেশি সময় বসে থাকা ঃ
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাবে হাড় দুর্বল হয়
হাড় ক্ষয়ের কারণসমূহ ঃ
- দীর্ঘদিন ধরে ক্যালসিয়াম কম খাওয়া হাড় ক্ষয়ের এর প্রধান কারণ ।
- সূর্যালোকের অভাব বা সঠিক ডায়েটে ভিটামিন ডি না থাকলে হাড় দুর্বল হয় ।
- মহিলাদের ইস্ট্রোজেন ও পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
- স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ দীর্ঘদিন খেলে হাড় দুর্বল হতে পারে ।
- থাইরয়েড সমস্যা কিডনি ডিজিজ ও ক্যান্সার ইত্যাদি প্রভাব আর ক্ষয় হতে পারে ।
হাড় ক্ষয় কিভাবে নির্ণয় করা হয় ?
হাড় ক্ষয়ের নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী পরীক্ষা হল ঃ
- Bone mineral density (BMD) Test এই টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায় আপনারা হাড়ের মিনারেল ঘনত্ব কতটুকু হাড় ক্ষয় হয়েছে তা নির্ধারণ করা যায় ।
- এছাড়া এক্স-রে ,রক্ত পরীক্ষা ও ইউরিক টেস্টের মাধ্যমেও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
হাড় ক্ষয়ের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ঃ
হাড় ক্ষয় প্রতিরোধের জন্য কিছু অভ্যাস ও চিকিৎসা অনুসরণ করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়
যেমনঃ
- দুধ, দই ,ছানা এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে ।
- ডিমের কুসুম মাছ সূর্য রশ্মি ভিটামিন ডি জন্য ।
- শাক সবজি বাদাম ম্যাগনেসিয়া ও , ফসফরাস পাওয়া যায় ।
এড়িয়ে চলুন ঃ
- অতিরিক্ত লবণ, ক্লোড ড্রিংকস ও ক্যাফেইন ।
- পর্যাপ্ত সূর্যের আলো গ্রহণ করুন প্রতিদিন সকালে ১৫ থেকে ২০মিনিট রোদে থাকলে শরীর ভিটামিন ডি তৈরি করে।নিয়মিত ব্যায়াম করুন যেমনঃ - হাটা, সাঁতার কাটা, হালকা ওজন তলা ও যোগব্যায়াম হাড় মজবুত করে ।
ঔষধ সেবন ঃ
ডাক্তারে পরামর্শ ঔষধ গুলো দেওয়া হতে পারে
- ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট (Calcium Carbonate/Citrate)
- ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট (Vitamin D)
- বিসফসফোনেটস (Bisphosphonates) যেমন( Alendronate)
- হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT ) নারীদের ক্ষেত্রে .
মনে রাখবেন কখনোই নিজে থেকে ওষুধ শুরু করবেন না আগে রিপোর্ট করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন
ঘরোয়া টিপস ও সতর্কতা ঃ
- মাটির কাজ নরম বিছানা ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন ।
- মসৃণ ঘর বা বাথরুমে পড়ে যাবা সম্ভাবনা থাকলে অ্যান্টি-স্লিপ ম্যাট ব্যবহার করুন ।
- বার বার বসা বা ওঠার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন ।
- নিয়মিত ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন মানসিক শান্তির জন্য ।
উপসংহার
হাড় কয় কোন তুচ্ছ রোগ নয়, এটা একেবারেই নিরবে শরীরকে ধ্বংস করে দিতে পারে কিন্তু সচেতনতা সঠিক জীবন যাপন খাদ্য তালিকা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে হার ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব বয়স যতই বাড়ুক হাড়ের যত্ন এখন থেকে নেয়া উচিত আজ থেকেই শুরু করুন
পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম
রোদে দাঁড়ানো
ব্যায়াম
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
সুস্থ হার শক্তিশালী জীবন দিতে পারে

Comments
Post a Comment